Tuesday, November 29, 2016

6>|| ঈশ্বর আছেন কি নেই -????-( সংগ্রহ )


6>|| ঈশ্বর আছেন কি নেই -( সংগ্রহ )

Copy from fb
---------------------
 (swami Vivekanand=  )


"বাজার থেকে হাফ ডজন ডিম কিনে নিয়ে আসলাম। ভাবছিলাম আমি যদি লন্ডনের কোন এক মুদির দোকানে গিয়ে বলতাম 'ডু ইউ কিপ ডিম? গিভ মে হাফ ডজেন ডিম প্লিজ!' দোকানদার নিশ্চয় ভুরু কুঁচকে বলত 'সরি!' অথবা 'পারডন মি!' সে তো জানেনা এগ মানে ডিম। ডিম মানে এগ!
এগ বলি বা ডিম- বস্তু কিন্তু এক। নামরকরণ আমরা যেভাবেই করিনা কেন তাতে পদার্থের অবস্থার কোন পরিবর্তন হয়না। পদার্থের বৈশিষ্টে এটা যোগ করা যেতে পারে। তবে এসব পদার্থবিজ্ঞানের আলোকে কথা নয়। মনোবিজ্ঞানের ভাবনা। স্পষ্ট করে ফিলোসফি বলি।
একটা ভাষা বোধহীন শিশু হয়ত জানেনা ডিমকে ডিম বলা হয়। কিন্তু তাই বলে ঐ সফেদ ডিম্বাকৃতির পদার্থটার বিলোপ হয়না। সে ডিম সম্পর্কে কিছু জানুক বা নাই জানুক এতে ডিমের কিছু যায় আসেনা। কোন একটা বস্তু বা বিষয় সম্পর্কে আমাদের অজ্ঞতা প্রমাণ করেনা যে ঐ বস্তু বা বিষয়ের অস্তিত্ব নেই। 

এভাবেই আমরা বলি ঈশ্বর আছেন! এভাবেই আমরা ভাবি- ডিম অথবা এগ যাই বলিনা কেন জিনিস এক! আল্লাহ বা ভগবান যাই বলিনা কেন বস্তু এক! আমরা দেখতে পাচ্ছিনা, বুঝতে পারছিনা বা আমরা জানিনা বলেই ঈশ্বর নেই তেমন তো নয়!

ডিমের তুলনায় ঈশ্বর অনেক বৃহৎ! এতটা বৃহৎ যে ঈশ্বর হাঁস মুরগীর কল্পনার বাইরে! তাই সমাধানে আসা সহজ হবেনা। 

ডিম পদার্থ আর ঈশ্বর অপদার্থ! 
বস্তুবাদী আলোচনার বিষয় নয় ঈশ্বর; 
ভাববাদের কেন্দ্র বলা যায়! তাই ঘটনাকে আরেকটু ঘোলা করা দরকার! 
ডিম কেনার সময় একটা বিষয় ভাবছিলাম। এই ডিমটা আছে বলেই কি আমি সত্য না কি আমি আছি বলেই ডিমটা সত্য? 
পরিষ্কার করে বললে, জগতের প্রেক্ষিতে আমি না কি আমার প্রেক্ষিতে জগত? 
জগতটা আছে বলেই কি আমি আমাকে তার চেয়ে স্বতন্ত্র বলে চিহ্নিত করি, 
না কি আমি আছি বলেই জগতটাকে আমি আমার চেয়ে আলাদা করে দেখতে পাই? 
আমি আর জগতকি একে অপরের নির্দেশক? 
জগতও সত্য, আমিও সত্য। 
কিন্তু এই সত্যটাকে উপলব্ধি করি আমি। 
জগত তো জড় মাত্র! 
আমাদের উপলব্ধির তারতম্যের অপর মোটামুটি সবকিছুই নির্ভর করে। 
সভ্যতার বিকাশ ও বিনাশ- সবকিছু! 
ডিমকে খাদ্য হিসেবে উপলব্ধি করেছি আমি। 
আমার কৃষ্ণভক্ত বন্ধুর কাছে এটা বিষভক্ষণ ও নরকের রাস্তা। 
উপলব্ধি দুরকম হল- তাই ডিমের প্রয়োগও দুরকম হল। 
সে বাঙালির ছেলে। 
ছেলেবেলা থেকে মাছ ডিম না খেয়ে প্রোটিনের ঘাটিতে ভুগছে! 
আর আমি বেশি খেয়ে কোলেস্টেরলের ঠেলায় আছি!

কথা হল উপলব্ধির তারতম্য ঈশ্বরের অস্তিত্ব অনস্তিত্বেও ঘটছে আমাদের। কারো কাছে ঈশ্বরের হাত পা নাক কান সব আছে। কারো কাছে আবার ঈশ্বর আছেন। খোদার আরস আছে। তিনি সেখানে বসবেন হাসরের দিনে। অথচ তার নাকি কোন অবয়ব নেই! একই সত্ত্বা নিয়ে নিয়ে যখন এত রকমের উপলব্ধি তখন ভাবতে হয়- সত্যি টা কি? অথবা আদোও এমন কিছু আছে কিনা? ডিমের আলোচনায় বলেছিলাম ডিমের মতন ঈশ্বরও সত্য এমন দাবী করা যায়। তবে ডিমের গঠন সবার কাছে এক হলেও ঈশ্বরের গঠন অভিন্ন নয়! এটার জন্যই চিন্তা হচ্ছে!
তারপরের কথা হচ্ছে সেই অস্তিত্ববাদের। ঈশ্বরের প্রেক্ষিতে আমি না কি আমার প্রেক্ষিতে আমি? জগত ও আমার প্রেক্ষিতে বলেছিলাম আমরা একে অপরের নির্দেশক। বিষয়টা জটিল বটে। জগত জড় বলে একে আপেক্ষিক বা আমার স্বাপেক্ষিক বলা যায়। জগত বা আমি কোনটাই ভাববাদের বিষয় নই। আমাদের ওজন আছে, ভর আছে, স্পষ্ট গতি প্রকৃতি আছে। আমরা একে অপরের কাছে নির্দেশ্য! তাই বুঝি- জগত আছে বলে আমি টের পাই আমি আছি। আর আমি (সাবজেক্ট) না থাকলে এই প্রশ্ন কে ওঠাত 'জগত আছে কি নেই?' কিন্তু ঈশ্বরের ক্ষেত্রে এই তত্ত্ব খাটেনা। কারণ ঈশ্বর অনির্দেশ্য। ঈশ্বর ও আমি একে অপরের পরিণাম নই, নির্দেশক নই। আমি ভাবছি বলেই ঈশ্বর অস্তিত্বময় হচ্ছে! আপাতত বিষয়টা এরকম!

কিন্তু এই 'আমি' শব্দটা আমাদের সামনে একটা বিরাট প্রশ্ন নিয়ে আসে সেটা হল- 'কে আমি?' এর উত্তর পেতে গিয়ে আমাদের অনেক হিমশিম খেতে হয়। দেহ আমাদের আমিত্বের ধ্রুবক নয়, মন নয়, ইন্টেলিজেন্স নয়। কারণ এগুলো প্রতিনিয়ত বিবর্তনের আবহে আছে। আমাদের ব্রেইন আমাদের নিয়ন্ত্রণ করে এটা বিজ্ঞানের দাবী। কিন্তু ব্রেইনে ত্রুটি হলে ওষুধ পত্রের বন্দোবস্ত করতে হচ্ছে। Absolute reality বলতে যা বোঝানো হয় ব্রেইন ঠিক সেটা নয়। শুদ্ধতম গাঁজায় জোরে দুটান দিলে ব্রেইনের (নিউরনের) অবস্থা টলমাটাল হয়। সবচেয়ে বড় প্রশ্নটা আসে মৃত্যুকে নিয়ে? মরার পরেও ব্রেইন তাজা থাকে। তাহলে মরে কে? হিন্দু দর্শন বলছে দেহ মরে আত্মা থাকে! আমি হিন্দু দর্শনকে এজন্য প্রাইওরিটি দিচ্ছি কারণ আর কোন ধর্মদর্শন এই বিষয় নিয়ে এত গভীর আলোচনা করেনা! বৌদ্ধদর্শন এই আত্মাকে অস্বীকার করে গেছে, কিন্তু মানসিক সংস্কারের প্রবাহকে (জন্মান্তরীন কর্মফলপ্রসূত) পূণর্জন্মের নিয়ামক হিসেবে দাবী করছে যা প্রশ্নবিদ্ধ! এখন আত্মা আছে কি নেই তা বলতে পারছিনা, তবে মৃত্যুর সময় এমন একটা কিছু ঘটে, বা আমরা এমন একটা কিছু হারিয়ে ফেলি যাতে আমাদের আর আমি বোধ থাকেনা। অর্থাৎ আমিও বেঁচে নেই। বলতে পারেন- গভীর ঘুম অথবা অজ্ঞান হলেও এরকম হয়। কিন্তু মৃত্যুর অভিজ্ঞতা নেই বলে এদুটোর সাথে আমি কোন তুলনায় যেতে পারছিনা এই মূহুর্তে। ঘুম ভাঙে, মৃত্যুর ঘুম আর ভাঙেনা। আমার আরো একটা সংশয় আছে ঘুমানোর সময় স্বপ্ন দেখে কে?
যাই হোক আমি এটাই বোঝাচ্ছিলাম প্রকৃত 'আমি' কি বস্তু সেটা সেটা আমাদের কাছেই এখনো অধরা। তাই আমিত্বের বিচার দিয়ে যখনই আমরা কোনকিছুর মূল্যায়ণ করি তখন আমার কাছে দুটো ধারণা প্রথমেই মাথায় আসে-
১। অভিজ্ঞতাবাদ। আমরা যা কিছু ভাবি সব আমাদের অভিজ্ঞতার প্রেক্ষিতেই ভাবি। এটা দর্শনের ভাবনা।
২। আমাদের মস্তিষ্কের স্বতন্ত্র কার্যপ্রণালী ও আমাদের ডিএনএ- এর স্বতন্ত্র গঠন। আমরা একে অপরের থেকে ভিন্ন আদলে তৈরি। তাই আমাদের ভাবনাগুলো কখনো কখনো অপরের সাথে সাদৃশ্যতা পেয়ে গেলেও আমরা সম্পূর্ণ রূপে এক নই।
আমাদের ঈশ্বর ভাবনার সাথেও ওপরের দুটো ধারণাকে প্রাসঙ্গিক ফ্যাক্টর বলে রাখতেই হবে। আমরা যেখানে নিজেদের অস্তিত্ব নিয়েই এখনো দ্বিধান্বিত সেখানে ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিয়ে নিঃসন্দিহান হওয়া আমার কাছে অযৌক্তিক লাগে। আমরা অস্তিত্ব নিয়ে দ্বিধান্বিত মানে কি আমরা কোনকিছু নিয়ে ভাবতে পারব না? তা কেন হবে? তবে perfect আর absolute এর মধ্যে ব্যাবধানটা কি সেটা জানা দরকার! (ক্রমশ......)"
 

 
--------
"তোমরা তিনটি জিনিস নিয়ে ভারতে এসেছিলে। বাইবেল ব্রান্ডি আর বেয়নেট।" আমেরিকা বা ব্রিটিশ মাটির উপর দাড়িয়ে এ কথা বলার মত সাহস বিবেকানন্দেরই ছিল। তার তেজের এক ফোঁটাও যদি আমাদের থাকত তবে তবে এমন দশা হত না। 

----------
 যে জাতি নিজের সংস্কৃতির ওপর শ্রদ্ধাহীন সে বেশীদিন বাঁচে না! অবশ্য সংস্কৃতির ওপর শ্রদ্ধা বজায় রাখতে গেলেও কিছু যুক্তিযুক্ত কারণ লাগে। পৃথিবী যেদিন জেনেছে তাদের একজন আলেক্সান্ডারের চাইতে একজন বুদ্ধের প্রয়োজন বেশী, পৃথিবী যেদিন আবিষ্কার করেছে গ্রীক পুরাণের চাইতে মহাভারতের বিদূর নীতি কিংবা গীতা কিম্বা উপনিষদের বাণী আজও প্রাসঙ্গিক! তারা যেদিন বুঝেছে একজন প্লেটোর কথার চাইতে একজন চাণক্য অনেক বেশী প্রয়োজনীয় সেদিনই তারা বুঝেছে এই ভারতবর্ষ অমর! আর এখান থেকেই বৃটিশের স্বাভিমানে আঘাত লেগেছিল যার প্রতিশোধও তারা চরমভাবে নিয়েছিল! ভারতবর্ষে তাদের অগণিত পুত্রকন্যাও তারা জন্ম দিয়ে গেছে তাদের অসমাপ্ত উদ্দেশ্য পূরণের জন্য! তাদের কর্মকাণ্ড আমরা আজও দেখি!

ভারতবর্ষের প্রাণ পরাণুকরণে পরিপুষ্ট হবে না। ভারতবর্ষের প্রাণে যে শক্তি তার জন্ম থেকেই বিদ্যমান সে তার পোষন করুক। সবার কাছে যাক, সবার মধ্যে যা ভাল তা গ্রহণ করুক, কিন্তু নিজেরটা যেন বাঁচাতে জানে। নইলে একদিন তারাও রোমান, গ্রীক, পারসিক, ফারাও, মায়ান, ইনকাদের মত হারিয়ে যাবে!
 -----------------------------------------
ধর্ম দিয়ে মানুষ কাটার ভব্যতা আমি পাইনি শৈশবে। ধর্মীয় বিভাজন বোঝার সময় আমি এটুকু বুঝেছিলাম আমি হিন্দু, ওরা মুসলিম, ওরা বৌদ্ধ। সব একই গোয়ালের গরু। প্রথম প্রথম বৌদ্ধদের আমি খুবই কমনীয় স্বভাবের মনে করতাম। এই ধারণাটা আমার ভাঙে খুব বিশ্রী ভাবেই। প্রতিটি ধর্মেই যাজকশ্রেণী ধর্মের সকল আদর্শ ডুবিয়ে ছাড়ে। বৌদ্ধ ধর্মেরও এই দুর্গতি। সেখানে আলাদা কোন যাজকশ্রেণী নেই। ভিক্ষুরাই সমাজের পুরোহিত। অনেক ভান্তের সাথে আলাপ করে দেখলাম কি রকম বুজরুকি আর প্রচ্ছন্ন হিংসার চর্চা করে তাদের দিন কাটে। এরাই অনেক অনুগামী সৃষ্টি করেন। এই অনুগামীরা আবার নিজেদের ভেতরেই বিবাদে ব্যস্ত। ভারতবর্ষে বৌদ্ধ ধর্মের একটা সুবর্ণময় ইতিহাস আছে। এই ইতিহাসটাকেও ধীরেধীরে অনেকে কতগুলো গালগল্পে নিয়ে গেছে। বৌদ্ধদের ইতিহাসকে ক্রমে একটা অ্যান্টি-হিন্দু থিওরিতে দাঁড় করানো হয়েছে ইচ্ছাকৃত ভাবে যাতে সত্য-মিথ্যার কথা আপাতত বাদ দিই, এতে লাভেরও কিছু হয় না। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে তারা এই বিষাক্ততার চর্চা করে যাচ্ছে। এবং অনেক ভিক্ষুই এসবের হোতা। ফেসবুকের কল্যাণে কিছু ভিক্ষুর সাথে এই টপিক নিয়ে আলাপ করার দুর্ভাগ্য হয়েছে আমার। তাদের জ্ঞানের বহর আর আচরণের ধারা আমার সম্পূর্ণ শ্রদ্ধানাশ করেছে। কোন কনফ্রেটারনিটি তে থাকলে মানুষের বুদ্ধি যে নিজস্ব গতি হারিয়ে ফেলে তার নিদর্শন সর্বত্র। মানুষ যে ধর্মেই চলুক না কেন শেষপর্যন্ত অন্ধত্বই তাকে গ্রাস করে। কেউ বাদ যায় না। ভগবান বুদ্ধের উপাসকেরাও নন। উপনিষদ এর বাণীধারীরাও নন। ধার্মিক মানে কোন না কোন ভাবেই সে সাম্প্রদায়িক। প্রচ্ছন্ন সাম্প্রদায়িকতা উগ্র মৌলবাদের চেয়ে ক্ষতিকারক কিন্তু সে সময়ে জানান দেয় সেটা।
 ---------------------------------------------
এখানে আমি তুমি আমরা তোমরা
আরও একজন আছে- আমাদের ভেতর থেকে প্রক্ষিপ্ত বাইরে
তরঙ্গায়িত অচ্ছেদ্য অন্ধকার, দেখতে কি পাও?

কোনদিন আমরা দেখতে পাব আমাদের।
কোনদিন আমরা জানতে পারব আমাদের সীমান্ত, সমুদ্রের ধার,
দিগন্তের হিল্লোল নিঃশ্বাস, নিস্তব্ধ, জনাকীর্ণ একক জীবন,
বহুবিধ বহুত্বের আবরণে আমাদের মিথ্যে সংসার
আমাদের সামনে এসে দাঁড়াবে নির্বাণের হাসি নিয়ে।

একি মৃত্যু? একি মুক্তি? একি সান্ত্বনার সাজানো সম্ভার
আমরা সকল যুক্তিতত্ত্ব অথবা যুক্তিহীনতার পরতে পরতে রাখি?

একি শেষের প্রশ্ন? একি সূচনার সূতিকাগার?

অথবা এসব কি নিছকই কল্পনা? অথবা বল সবই কি কল্পনার

যোগ্য করে আমরা বাস্তবে বানিয়ে নিই? আমাদের ইচ্ছে মত আঁকি

অদৃশ্যকে আমাদের রঙ রূপে? প্রশ্ন আমার।


যেখানে চোখ খুললেই অন্ধকার

সেখানে চোখ বুজে রাখলেই ভাল! একদিন সুর্য্য উঠবেই জানি।
--------------------------------------------

 
জীবনজিজ্ঞাসা থেকেই আধ্যাত্মিকতার শুরু। মন্দিরে মসজিদে কপাল ঠেকিয়ে বেড়ানোটা আধ্যাত্মিকতা নয়। ধর্ম-প্রথা-সংস্কারের দাসত্ব করাটা আধ্যাত্মিকতা নয়। অনিশ্চিত ক্ষণস্থায়ী জীবনে্র প্রকৃত অর্থ খোঁজাটাই আধ্যাত্মিকতা। মানুষকে আধ্যাত্মিক হতে গেলে প্রথাবদ্ধ হতে হয় না। প্রথা মানুষকে আধ্যাত্মিক করে না। ধর্মও মানুষকে আধ্যাত্মিক করতে পারে না। আধ্যাত্মিকতা মানুষের স্বভাবজ গুণ।

আধ্যাত্মিক বোধ বিবর্জিত ব্যাক্তি যে ধর্মের অনুসারীই হোক না কেন সে ধার্মিক কিঞ্চিৎ হলেও আধ্যাত্মিক মানব হয় না। যেখানে আধ্যাত্মিকতা নেই সেখানে ধর্ম থাকা না থাকায় কোন ফারাক পড়ে না। মানুষের কাছে ধর্ম একটা পুরাতন সংস্কার। যেখানে উপাস্য আছে আর জিজ্ঞাস্য কিছু নেই! যেখানে অনুকরণ অনুসরণের প্রয়োজন আছে অথচ কার্য-কারণ সম্পর্কের ব্যবচ্ছেদ নেই! সব ধর্ম ও তাদের ভগবান-ঈশ্বর-আল্লা যেখানে সমস্ত যুক্তি ও প্রশ্নের উর্দ্ধে, যেখানে মানুষের চেতনা বাধাগ্রস্ত, দ্বিধাগ্রস্ত, যেখানে সংশয় করাকেও পাপ ভাবা হয় সেখানে আধ্যাত্মিকতা কোথায়? যে মানুষ নিজেকে চেনে না সে ঈশ্বরকে চিনতে চায় কি? সে কতগুলো আচারের অনুগমন করে শুধু! সে ধার্মিক হয়। সে কোনদিনও আধ্যাত্মিক হয় না! যে ব্যাক্তি আধ্যাত্মিক সে সমগ্র মানবজাতির কল্যাণকামী। যে ধার্মিক সে নিজের বৃত্তের মঙ্গল চায়!


অমুক ব্যাক্তি মহাপুরুষ ছিলেন- তাঁর পূজা করলেই আমরা আধ্যাত্মিক হব না! তাঁর মত হবার চেষ্টা করলেই হব! তা না হলে সারাবছর অমুক ব্যাক্তির গুণগান করার ভেতর কোন সার নেই! শাস্ত্র-পুঁথি বিশ্বাস করাতে কোন ধর্ম নেই! ধর্ম আচরণে নিহিত। বাগাড়ম্বরে নয়। আচরণহীন বাগাড়ম্বর নিছক ভণ্ডামি এবং আমরা কমবেশী সবাই ভন্ড! আমরা যা বিশ্বাস করি তা কখনোই কাজে করে দেখাই না! অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমাদের বিশ্বাসগুলোই বিপথগামী, বিপদগামী এবং অর্থহীন ও অবান্তর! কিন্তু আমরা শিক্ষা পেয়েছি- 'বিশ্বাসে মিলায় বস্তু'...... ইত্যাদি ইত্যাদি! আমাদের বিশ্বাস করতে শেখানো হয়েছে! আমাদের পালন করতে শিক্ষা দেয়নি কেউ! আমাদের চিন্তাশক্তিকে প্রশস্ত করতে পারিনি আমরা কোনদিন! আমরা আমাদের চৌদ্দপুরুষের সঙ্কীর্ণ চৌহদ্দির ভেতরে নির্বিচারে বসবাস করাকেই শ্রেয় ভাবি! তা না হলে পাপ হবে! তা না হলে ধর্মবিরুদ্ধতা হবে! মশাই গো, আমার অমন ধর্মে রুচি নেই! আমি আধ্যাত্মিক হওয়াকে সাষ্ঠাঙ্গ জানাই! ধর্মের কূয়োতে পড়ে থাকাকে নয়! অধর্মের কূয়োতে ডুবে যাও্য়াকেও নয়।


"I must not die for my beliefs because I might be wrong." - Bertrand Russel


আমি এই পথের পথিক! আমি কোন বিশ্বাসের আজ্ঞাকারী নই! কোন ধর্মের স্বীকৃত দাস নই! আমার জীবনে অজস্র জিজ্ঞাসা আছে। হয়ত একদিন আমার মত করেই আমি উত্তর পাব। হয়ত পাব না। আমার হিন্দুত্ব আর্য্য ঋষিদের পরম্পরাগত সম্পদ! এইসব শাক্ত-বোষ্টমের বাতলে দেয়া আচারবিচার নয়! আমার হিন্দুত্ব উপনিষদের বাণী! মনুসংহিতা-টনুসংহিতা নয়! আমার হিন্দুত্ব রামায়ণ-মহাভারতের সংস্কৃতিতে! হাজার হাজার অমুকব্রত-তমুকব্রততে নয়! আমার হিন্দুত্ব অন্ধের মত সবকিছু মেনে নেয়াতে নয়! আমার হিন্দুত্ব হিন্দুদের বিধান-ফিধানের ওপর ভর করে থাকে না! এতে কোন হিন্দুর কি বলার থাকে বলুক না!


স্পষ্ট করে বললে- ধর্মবিশ্বাসই কাউকে যথার্থ ধার্মিক করে তোলে না, আধ্যাত্মিক তো নয়ই! 'আমি হিন্দু' 'আমি মুসলমান' 'আমি বৌদ্ধ' বললেই কেউ ধার্মিক হয় না! আর আধ্যাত্মিকতা এইসব স্বাতন্ত্র্যকরণের অনেক আগে চলে! আমি হিন্দুর হয়ে লড়ি, আমি সংখ্যালঘুর জন্য লড়ি, আমি বিজ্ঞান ও দর্শনের জন্য্ও লড়ি! আমার এই লড়ালড়িতে ধর্মীয় উগ্রতার গন্ধ নেই! আমি সবচেয়ে বেশী আঘাতটা হিন্দুদেরই করি। তাদের অধঃপতনটা বেশী করে দেখাই! তাদের মজ্জায় মজ্জায় কুসংস্কার আর অন্ধবিশ্বাস ভরে গেছে। তাদের ধর্ম থেকে সমস্ত দর্শন বিলুপ্ত হয়েছে। তারা তাদের ধর্মের ভিত্তিটাই চেনে না! তাদের বৈদিক ধর্মকে তারা টুকরো টুকরো গল্পের আস্তরণে সাজিয়েছে। সেখানে কতশত মহানায়ক, কত ভগবান, কত দেবী দেবতা আর এই নিয়ে তাদের ভেতর কত হিংসাহিংসী! জাতপাতের বালাই! বিষ্ণু-শিবের মারামারি! একে অপরকে গালাগাল। উদ্ভ্রান্ত কতশত হেনতেন প্রথা! কতশত মানুষের লেখা কেচ্ছাকাহিনী আর ব্রাহ্মণ্যবাদী বিধান! এইসব হিন্দুদের গিলে খাচ্ছে। স্পেশালি বাংলাদেশের মত বিজ্ঞানচর্চায় পিছিয়ে থাকা দেশে! আমি এসব বলি! এইসব অর্বাচীনতাকে আমি ধর্ম বলে মানি না! আমি এসব ধর্মের অন্তর্ভূক্ত কেউ নই!


মশাই গো, গরীব-গুরবো, চাষাভূষোরা শিক্ষার আলো পায় না! সে আঁধা হোক, কানা হোক, আমি তার সাথে আছি! কিন্তু আপনাদের মত শিক্ষিত (কেবল ডিগ্রীধারী) ধার্মিকেরা যারা ধর্মের নামে অন্ধকারের উপাসনা করেন আমি তাদের সাথে চলাকে অগৌরবের মনে করি। আমি দেখেছি চাষীর বৌ মোমবাতি কিনে আনে, সে মোমবাতি অর্ধেক করে কাটে, সেই আধাকাটা মোমবাতি লক্ষ্মীর ঘটের সামনে জ্বালায়, উলু দিয়ে কাঁসা বাজায়, গড় হয়ে প্রণাম করে, শাঁখাজোড়া হাত কপালে ঠেকায়! হ্যাঁ- এও প্রথা! কিন্তু এর মধ্যে মাটির সংস্কৃতি মিশে আছে! এর মধ্যে কোন রঙঢঙের ফ্যাশন নেই! আমি সেই সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল! আপনাদের নানা পুঁথি উদ্ধার করা হিজিবিজি গপ্পোবাজির প্রতি আমার বিন্দুমাত্র ভরসা নেই! আমার তেমন কোন হিন্দুত্ব নেই!
-----------------------------------------

আমার কৈশোর থেকেই আমি প্রচণ্ড ভাবে তথাগত বুদ্ধ প্রভাবিত। জগতে মানুষের যত উচ্চতম বিকাশ দেখা গেছে তার কোনটাই তথাগত বুদ্ধকে ছাড়িয়ে যায়নি। স্বামী বিবেকানন্দ বলতেন জগত আর কখনো এতবড় হৃদয় দেখেনি। বুদ্ধের শিক্ষা আর অদ্বৈত বেদান্তের শিক্ষার মধ্যে একটাই মৌলিক পার্থক্য। বুদ্ধ আত্মা, ব্রহ্ম এসব নিয়ে অস্তি-নাস্তির পারে ছিলেন। তিনি বুঝিয়েছিলেন মানুষ এসবের বিতর্ক নিয়ে নির্বাণলাভ করতে পারে না। মানুষের কায়মনোবাক্যে পবিত্রতা ও সাধুত্ব চাই। সাধনা চাই। মানুষের চাই অর্থহীন আচার-বিচার-সংস্কার থেকে মুক্তি। তথাকথিত প্রমাদযুক্ত বিশ্বাসের নিগড় থেকে স্বাধীনতা। মানুষ নিজের ভেতরেই খুঁজুক আলো। তিনি বললেন 'আত্মদীপো ভব।'


আমি হিন্দু পরিবারে জন্মেছি। হিন্দুর ধর্মীয় সংস্কারে শ্রদ্ধা নিয়েই আমি বর্ধিত হয়েছি। যত আমার আয়ু বেড়েছে ততই আমি হিন্দুর ধর্মাচারের নামে হাজার লোকাচার, পূজার নামে মাতলামি, অবতারবাদের আশ্রয়ে ভন্ডামি, জাতপাতের বেড়াজাল দেখতে দেখতে ততই আমি হিন্দুবিমুখ হয়েছিলাম। আমি বিবেকানন্দের আলো না পেলে জানতামই না এই বৈদিক ধর্ম কি ছিল, কি অদ্ভুত দর্শন ছিল ভারতভূমির, কি বিরাট এক সংস্কৃতি ও সভ্যতা ছিল আমাদের যার সবই আমরা ভুলে গেছি। এখন আমরা কেবলই একটা পৌত্তলিক ধর্মাচারে বদ্ধ হয়ে গেছি! এটা তেতো সত্য। আমি প্রতিদিন হতাশ হয়েছি। কিন্তু এ দায় ধর্মের নয়।


৫০০০ (আধুনিক গবেষণায় আরও বেশী) বছরের অত্যন্ত দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় আর্য্যদের সংস্কৃতি, ধর্ম আজও গোড়ার মত অবিকৃত থাকবে এটা ভাবা যায় না। কোন সভ্যতাই এভাবে বাঁচে না। সভ্যতা নদীর মত। হিন্দুদের এই পথচলাতে তারা নানা পথে যা কিছু পেয়েছে সবই নিজের ভেতর নিয়েছে এবং বর্ধিত হয়েছে। এতে তাদের ধর্মীয় গোঁড়ামির স্থানটা নমনীয় হলেও ভেতরের দার্শনিক ঐক্য একেবারে পঁচে গেছে। তাদের নানা মুনির নানা মতই ধর্ম। তাদের ধর্মের সার্বভৌম ভিত্তি কি সেটা আজ তাদেরই অজানা। আমি এরকম হিন্দুত্বে অনাস্থাশীল এবং আমি বিশ্বাস করি এই অবস্থার উন্নতি আসলেই অসম্ভব। চেষ্টা করাটা হবে ১০০০ ভাঙা কাঁচের টুকরো দিয়ে একটা সুন্দর আয়না গড়ার মত!

======================================


   স্বামীজি বলতেন শংকরের জ্ঞান 

আর বুদ্ধের হ্রদয় জগতে অতুলনীয়।
========================================





 ১ টাকায় ১ মণ চাল! 

বাংলাদেশের ইতিহাস বইতে পড়া 
সবচেয়ে ট্যান্টালাইজিং মিস্ট্রি!

 ইতিহাস বলে ----

ঔরঙ্গজেব নিযুক্ত বাংলার সুবেদার শায়েস্তা খাঁ, 

তাঁর অন্যতম কীর্তি হিসেবে কথিত আছে- 
তাঁর আমলে ১ টাকায় ১ মণ চাল পাওয়া যেত! বাপরে বাপ! খুব ভাল কথা।

সুবেদার শায়েস্তা খাঁর আমলে বাংলার সাধারণ জনগণ 

বাজার-সদাই করত কড়ি দিয়ে। 
এবার কড়ির হিসেবটা কেমন একটু দেখি।

৪ কড়ি = ১ গণ্ডা, 

২০ গণ্ডা = ১ পণ, 
৪ পণ = ১ আনা, 
৪ আনা = ১ কাহন, 
৪ কাহন = ১ টাকা। 
অর্থাৎ 
১ টাকা = ৫১২০ কড়ি।

১ মণ অর্থাৎ ৪০ সের চাল কিনতে কাউকে ৫১২০টি কড়ি দিতে হত! 

এতে কি চালের মূল্য কম বোঝা যাচ্ছে নাকি বাড়তি বোঝা যাচ্ছে।


================================================


এক টাকায় এক মন নয়, আট মনের কথা বলা হয়।

এখানে আপনার পয়েন্ট ঠিক আছে, ওই সময় একটা গরুর দামও ওরকমই ছিল।

আর যারা সস্তা বোঝাতে ওই গল্প উল্লেখ করে, তারা এটা বলেনা যে, সেসময় আট মন চাল বিক্রি করলে মাত্র এক টাকা পাওয়া যেত!

==============================================

5>|| কিছু মূল্যবান চিঠি =আব্রাহাম লিঙ্কন

5>|| কিছু মূল্যবান চিঠি 


আব্রাহাম লিঙ্কন এর চিঠি
নিজ পুত্রকে কি কি শেখাতে হবে সেই নির্দেশনা দিয়ে স্কুলের হেডমাস্টারকে লেখা আব্রাহাম লিংকনের লেখা বিখ্যাত চিঠির বঙ্গানুবাদ-
____________________
মাননীয় মহোদয়,
আমার পুত্রকে জ্ঞানার্জনের জন্য আপনার কাছে প্রেরণ করলাম। তাকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবেন-এটাই আপনার কাছে আমার প্রত্যাশা।
আমার পুত্রকে অবশ্যই শেখাবেন-সব মানুষই ন্যায়পরায়ন নয়, সব মানুষই সত্যনিষ্ঠ নয়।তাকে এও শিখাবেন-প্রত্যেক বদমায়েশের মাঝেও একজন বীর থাকতে পারে, প্রত্যেক স্বার্থপর রাজনীতিকের মাঝেও একজন নিঃস্বার্থ নেতা থাকেন। তাকে শেখাবেন-পাঁচটি ডলার কুড়িয়ে পাওয়ার চাইতে একটি উপার্জিত ডলার অধিক মুল্যবান। এও তাকে শিখাবেন-কিভাবে পরাজয়কে মেনে নিতে হয় এবং কিভাবে বিজয়োল্লাস উপভোগ করতে হয়। হিংসা থেকে দূরে থাকার শিক্ষাও তাকে দিবেন। যদি পারেন নীরব হাসির গোপন সৌন্দর্য তাকে শেখাবেন। সে যেন আগেভাগেই একথা বুঝতে শেখে- যারা পীড়নকারী তাদেরকে সহজেই কাবু করা যায়। বইয়ের মাঝে কী রহস্য লুকিয়ে আছে, তাও তাকে শেখাবেন।
আমার পুত্রকে শেখাবেন, বিদ্যালয়ে নকল করে পাশ করার চেয়ে অকৃতকার্য হওয়া অনেক বেশী সম্মানজনক। নিজের উপড় তার যেন সুমহান আস্থা থাকে-এমনকি সবাই যদি সেটাকে ভুলও মনে করে।
তাকে শেখাবেন, ভদ্রলোকের প্রতি ভদ্র আচরণ করতে, কঠোরদের প্রতি কঠোর হতে। আমার পুত্র যেন এ শক্তি পায়-হুজুগে মাতাল জনতার পদাঙ্ক অনুসরন না করার। সে যেন সবার কথা শোনে এবং সত্যের পর্দায় ছেঁকে যেন শুধু ভালটাই শুধু গ্রহন করে-এ শিক্ষাও তাকে দেবেন।
সে যেন শেখে দূঃখের মাঝে কীভাবে হাসতে হয়। আবার কান্নার মাঝে লজ্জা নেই-সেকথা তাকে বুঝতে শেখাবেন। যারা নির্দয়, নির্মম তাদেরকে সে যেন ঘৃনা করতে শেখে আর অতিরিক্ত আরাম-আয়েশ থেকে সাবধান থাকে।
আমার পূত্রের প্রতি সদয় আচরণ করবেন কিন্তু সোহাগ করবেন না, কেননা আগুনে পুড়েই ইস্পাত খাঁটি হয়। আমার সন্তানের যেন অধৈর্য হওয়ার সাহস নাথাকে, থাকে যেন তার সাহসী হবার ধৈর্য। তাকে এ শিক্ষাও দেবেন-নিজের প্রতি তার যেন সুমহান আস্থা থাকে আর তখনই তার সুমহান আস্থা থাকবে মানব জাতির প্রতি।
ইতি আপনার বিশ্বস্ত,
আব্রাহাম লিঙ্কন
"=================+==+======
জীবনানন্দ দাশ
বনলতা সেন দিতে পারেনি তাঁকে দুমুঠো ভাতের নিশ্চয়তা। চাকরীহারা বেকার হয়ে ঘুরে বেড়িয়েছিলেন পথে পথে। ফিরেছিলেন দ্বারে দ্বারে। অফুরাণ ঋণের বোঝা কাঁধ থেকে নামাতে করেছিলেন সামান্য টিউশনি। বাড়িভাড়া দেবার টাকা ছিল না। করেছেন বীমা অফিসের দালালির মত নিকৃষ্ট কাজ! শুনুন সেই মানুষটার করুণ আকুতি-
_______
আমার প্রিয় অধ্যাপক কবির,
বিশিষ্ট বাঙালিদের ভিতর আমি পড়ি না; আমার বিশ্বাস, জীবিত মহত্তর বাঙালিদের প্রশ্রয় পাওয়ার মতনও কেউ নই আমি। কিন’ আমি সেই মানুষ, যে প্রচুর প্রতিকূলতা সত্ত্বেও প্রতিটি দ্রব্যকে সোনা বানিয়ে তুলতে চায় অথবা মহৎ কোনও কিছু – যা শেষ বিচারে একটা কোনও জিনিসের-মতন-জিনিস; – কিন্তু, ভাগ্য এমনই যে, আজ তার পেটের-ভাত জুটছে না। কিন্তু, আশা করি, একটা দিন আসবে, যখন খাঁটি মূল্যের যথার্থ ও উপযুক্ত বিচার হবে; আমার ভয় হয়, সেই ভালো দিন দেখতে আমি বেঁচে থাকব না। আপনার কথা-মতো আমি জ্যোতিবাবুর অথবা বি.সি. রায়’এর সঙ্গে এখনও দেখা করার চেষ্টা করি নি; আমার মনে হয়, আমার মতন মানুষের পক্ষে তাঁরা দূরের মানুষ। আমি যেন অনুভব করি, আপনিই আমাদের মতন লোকের জন্য এক-মাত্র মানুষ; আপনার উপর আমার গভীর আস্থা আছে। আমি সর্বদা বিশ্বাস করি যে, আপনার নিজের পরিপূর্ণ শাসনের ভিতরে আছে, এমন কোনও একটা, আমার পক্ষে মানানসই, জায়গায় আপনি আমাকে বসিয়ে দিতে পারেন; আমাকে একটা উপযুক্ত কাজ দিয়ে দেবার মতন সুযোগ-সুবিধা আপনার খুবই আছে। আমার আর্থিক অবস্থাটা এখন এতটাই শোচনীয় যে, যেকোনো একজন সকর্মক ‘অপর’ মানুষ যে-কাজ করতে পারে, কেন্দ্রীয় সরকার’এর অধীনে সে-কাজ আমারও করতে পারা উচিত। আমি মনে করি, এ-রকম একটা কাজ এক জন মানুষকে সেই সম্মানটা দিয়ে দিতে পারে, যা প্রতিটি মানুষ নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে পারলে অর্জন করে নেয়; তার বেশি আমি আর কিছু চাই না। আমার দেশ আমার অস্তিত্বের স-র-মাত্রাটার সাপেক্ষে সেই যথাযোগ্য সুযোগটা আমাকে দিক, যাতে আমি আমার ন্যূনতম জীবনযাপন নিয়ে থেকে যেতে পারি। প্রাইভেট কলেজের অধ্যাপকের কাজ ক্ষুদ্র কাজ : অধিকন্তু অন্যান্য নানা কারণেও ওই কাজটা আমি আর করতে চাই না। আমার খুবই পছন্দ তেমন কোনও একটা মানানসই কাজ, যাতে অনেকটা গবেষণা করতে হয়, লিখতে হয় এবং ভাবনা-চিন্তা করতে হয়।
ইতি
আপনার জীবনানন্দ দাশ
১৬ই এপ্রিল, ১৯৫৪।
______________
অধ্যাপক হুমায়ুন কবির, জীবনানন্দের কোন চিঠিরই উত্তর দেননি। শুধু মরণোত্তর আকাদেমি পুরস্কার পাইয়ে দিয়েছিলেন! বাঙালি জীবিত প্রতিভার দাম দেয় না- এ কথাটা সত্যি বলেছিলেন হুমায়ুন আজাদ।
""=================
জীবনানন্দ  দাশ অাত্বহত্যা করার মত কবি ছিলেন না, একজন কবি যখন তার কাব্যিক জটিলতার সমাধান করেন তখন তিনি যেখানেই অবস্থান করুন না কেন, তার মস্তিস্ক তখন ব্যাস্ত থাকে কাব্যিক সমাধানের জন্য যেটাকে বলা হয় অন্তর্ধ্যান যে টা রামকৃষ্ণ ও সক্রেটিসের ভেতর মাঝে মাঝে দেখা যেত, তারা হঠাৎ করেই যে  কোনও যায়গায় ধ্যানে মগ্ন হয়ে পড়তেন,সেটা রাস্তার মাঝে অথবা সিনেমা থিয়েটারে বসে হতো, জীবনান্দের ও সম্ভবত সেই রকম একটা  কিছু হয়েছিল , ওই মূহুর্তে ট্রামের নিচে পড়া টা স্বাভাবিক, বনলতা ছিলেন সম্ভব একজন বারবনিতা, যার কাছে কবি দু- দন্ড শান্তি পেয়ে ছিলেন,
=============
একটা গুজব আছে উনি ট্রামের থেকে নামতে গিয়ে মারা যাননি উনি আত্মহত্যাই  করেছিলেন.....
============++++
=======================================================================
মাস্টারদা সূর্য্য সেনের শেষ চিঠি
এক সূর্য্যের শেষ কিরণের তেজ
_____________________
"আমার শেষ বাণী-আদর্শ ও একতা। ফাঁসির রজ্জু আমার মাথার উপর ঝুলছে। মৃত্যু আমার দরজায় করাঘাত করছে। মন আমার অসীমের পানে ছুটে চলছে। এই ত’ সাধনার সময়। বন্ধুরূপে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করার এই ত সময়। ফেলে আসা দিনগুলোকেও স্মরণ করার এই ত সময়।
কত মধুর তোমাদের সকলের স্মৃতি। তোমরা আমার ভাইবোনেরা, তোমাদের মধুর স্মৃতি বৈচিএ্যহীন আমার এই জীবনের একঘেঁয়েমিকে ভেঙ্গে দেয়। উৎসাহ দেয় আমাকে। এই সুন্দর পরম মুহুর্তে আমি তোমাদের জন্য দিয়ে গেলাম স্বাধীন ভারতের স্বপ্ন। আমার জীবনের এক শুভ মুহুর্তে এই স্বপ্ন আমাকে অনুপ্রাণিত করছিল। জীবনভর উৎসাহ ভরে ও অক্লান্তভাবে পাগলের মত সেই স্বপ্নের পিছনে আমি ছুটেছি। জানিনা কোথায় আজ আমাকে থেমে যেতে হচ্ছে। লক্ষে পৌছানোর আগে মৃত্যুর হিমশীতল হাত আমার মত তোমাদের স্পর্শ করলে তোমরাও তোমাদের অনুগামীদের হাতে এই ভার তুলে দেবে, আজ যেমন আমি তোমাদের হাতে তুলে দিয়ে যাচ্ছি। আমার বন্ধু্রা- এগিয়ে চল। এগিয়ে চল- কখনো পিছিয়ে যেও না। পরাধীনতার অন্ধকার দূরে সরে যাচ্ছে। ঐ দেখা যাচ্ছে স্বাধীনতার নবারুন। কখনো হতাশ হয়ো না। সাফল্য আমাদের হবেই। ভগবান তোমাদের আশির্বাদ করুন।
১৯৩০ সালের ১৮ই এপ্রিল চট্টগ্রাম ইস্টার বিদ্রোহের কথা কোন দিনই ভুলে যেও না। জালালাবাদ, জুলধা, চন্দননগর ও ধলঘাটের সংগ্রামের কথা সব সময় মনে রেখো। ভারতের স্বাধীনতার বেদীমূলে যে সব দেশপ্রেমিক জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের নাম রক্তাক্ষরে অন্তরের অন্তরতম প্রদেশে লিখে রেখো।
আমাদের সংগঠনে বিভেদ না আসে- এই আমার একান্ত আবেদন। যারা কারাগারের ভিতরে ও বাইরে রয়েছে, তাদের সকলকে জানাই আমার আশির্বাদ। বিদায় নিলাম তোমাদের কাছ থেকে।
বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক
বন্দে মাতরম্‌।"
-------------------
সূত্রঃ উইকিসংকলন
__________________
(মাস্টারদা সূর্য্য সেন ফাঁসীতে যাবার আগে চট্টগ্রামের বিপ্লবীদের উদ্দেশ্যে লিখেছিলেন এই চিঠি। ফাঁসীর মঞ্চে ওঠানোর আগে ব্রিটিশরা হাতুরী দিয়ে তাঁর দাঁত ভেঙ্গে দেয় এবং তাঁর হাড় ও ভেঙ্গে দেয়। হাতুরী দিয়ে নির্মম ভাবে পিটিয়ে অত্যাচার করা হয়। এরপর তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। সূর্য সেন ও তারকেশ্বর দস্তিদারের লাশ আত্মীয়দের হাতে হস্তান্তর করা হয়নি এবং হিন্দু সংস্কার অনুযায়ী পোড়ানো হয়নি।ফাঁসীর পর লাশদুটো জেলখানা থেকে ট্রাকে করে ৪ নম্বর স্টীমার ঘাটে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর মৃতদেহ দুটোকে ব্রিটিশ ক্রুজার 'দ্যা রিনাওন; এ তুলে নিয়ে বুকে লোহার টুকরা বেঁধে বঙ্গোপসাগর আর ভারত মহাসাগরের সংলগ্ন একটা জায়গায় ফেলে দেয়া হয়। তাঁর মৃত শবটাকেও এত ভয় পেয়েছিল কাপুরুষ বৃটিশ সরকার!
আমাদের ক্ষমা কর না হে মহানায়ক! স্বাধীনতার নামে আমরা তোমাকে প্রহসন আর জ্বালাময় অপমান ছাড়া কিছু দিতে পারিনি।)
≠======================+++
আসুন একটা দস্যি মেয়ে প্রীতিলতা দেবীর মাকে লেখা চিঠি পড়ি।
মাগো ,
তুমি আমায় ডাকছিলে? আমার যেন মনে হলো তুমি আমার শিয়রে বসে কেবলি আমার নাম ধরে ডাকছো, আর তোমার অশ্রুজলে আমার বক্ষ ভেসে যাচ্ছে। মা, সত্যিই কি তুমি এত কাঁদছো? আমি তোমার ডাকে সাড়া দিতে পারলাম না- তুমি আমায় ডেকে ডেকে হয়রান হয়ে চলে গেলে।
স্বপ্নে একবার তোমায় দেখতে চেয়েছিলাম- তুমি তোমার আদরের মেয়ের আবদার রক্ষা করতে এসেছিলে! কিন্তু মা, আমি তোমার সঙ্গে একটি কথাও বললাম না। দুচোখ মেলে কেবল তোমার অশ্রুজলই দেখলাম। তোমার চোখের জল মোছাতে এতটুকু চেষ্টা করলাম না।

মা, আমায় তুমি ক্ষমা করো- তোমায় বড় ব্যথা দিয়ে গেলাম। তোমাকে এতটুকু ব্যথা দিতেও তো চিরদিন আমার বুকে বেজেছে। তোমাকে দুঃখ দেওয়া আমার ইচ্ছা নয়। আমি স্বদেশ-জননীর চোখের জল মোছাবার জন্য বুকের রক্ত দিতে এসেছি। তুমি আমায় আশীর্বাদ কর, নইলে আমার মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হবে না।
একটি বার তোমায় দেখে যেতে পারলাম না! সেজন্য আমার হৃদয়কে ভুল বুঝোনা তুমি। তোমার কথা আমি এক মুহূর্তের জন্যও ভুলিনি মা। প্রতিনিয়তই তোমার আশীর্বাদ প্রার্থনা করি। আমার অভাব যে তোমাকে পাগল করে তুলেছে, তা আমি জানি। মাগো, আমি শুনেছি, তুমি ঘরের দরজায় বসে সবাইকে ডেকে ডেকে বলছো-‘ওগো তোমরা আমার রানীশূন্য রাজ্য দেখে যাও।’

তোমার সেই ছবি আমার চোখের ওপর দিনরাত ভাসছে। তোমার এই কথাগুলো আমার হৃদয়ের প্রতি তন্ত্রীতে তন্ত্রীতে কান্নার সুর তোলে। মাগো, তুমি অমন করে কেঁদো না! আমি যে সত্যের জন্য, স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দিতে এসেছি, তুমি কি তাতে আনন্দ পাও না? কি করবে মা? দেশ যে পরাধীন! দেশবাসী যে বিদেশীর অত্যাচারে জর্জরিত! দেশমাতৃকা যে শৃঙ্খলভারে অবনতা, লাঞ্ছিতা! তুমি কি সবই নীরবে সহ্য করবে মা? একটি সন্তানকেও কি তুমি মুক্তির জন্য উৎসর্গ করতে পারবে না? তুমি কি কেবলই কাঁদবে? আর কেঁদো না মা। যাবার আগে আর একবার তুমি আমায় স্বপ্নে দেখা দিও। আমি তোমার কাছে জানু পেতে ক্ষমা চাইবো।
আমি যে তোমায় বড় ব্যথা দিয়ে এসেছি মা। ইচ্ছা করে ছুটে গিয়ে তোমার কাছে ক্ষমা চেয়ে আসি। তুমি আদর করে আমাকে বুকে টেনে নিতে চাইছো, আমি তোমার হাত ছিনিয়ে চলে এসেছি। খাবারের থালা নিয়ে আমায় কত সাধাসাধিই না করেছো- আমি পিছন ফিরে চলে গেছি।
না, আর পারছি না। ক্ষমা চাওয়া ভিন্ন আর আমার উপায় নেই। আমি তোমাকে দুদিন ধরে সমানে কাঁদিয়েছি। তোমার ক্রন্দন আমাকে এতটুকু টলাতে পারেনি। কি আশ্চর্য মা! তোমার রানী এত নিষ্ঠুর হতে পারলো কি করে? ক্ষমা করো মা; আমায় তুমি ক্ষমা করো!
                   ||**||**||**||
"ইতিহাস তাকে ‘অগ্নিযুগের অগ্নিকন্যা’ আখ্যা দিয়েছে। অথচ কল্পনা দত্ত ১৯৩০ সালে প্রীতিলতার বাড়িতে এক আলাপচারিতা প্রসঙ্গে লিখেছেন :
‘‘কথা হচ্ছিল, পাঁঠা কাটতে পারব কি না। আমি বলেছিলাম, ‘নিশ্চয় পারব, আমার মোটেই ভয় করে না।’
প্রীতি উত্তর দিয়েছিল, ‘ভয়ের প্রশ্ন না, কিন্তু আমি পারব না নিরীহ একটা জীবকে হত্যা করতে।’
একজন তৎক্ষণাৎ প্রশ্ন করল, ‘কী, দেশের স্বাধীনতার জন্য তুমিও অহিংস উপায়ে সংগ্রাম করতে চাও?’
আমার মনে পড়ে প্রীতির স্পষ্ট জবাব, ‘স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দিতেও পারব, প্রাণ নিতে মোটেই মায়া হবে না। কিন্তু নিরীহ জীব হত্যা করতে সত্যি মায়া হয়, পারব না।’"-ওপরের চিঠিটা এই মেয়ের লেখা অবলা জীবের প্রতি তার কি অকৃত্রিম মায়া অথচ দেশের জন্য দনুজদলনী বেশ ধারণে একটুও বিচলিত নন । তার আত্মাহূতির পর মাস্টার দা এই চিঠি রাণীর মায়ের কাছে পৌঁছে দেবার ব্যবস্থা করেন! নিশ্চয় আমাকে তাঁর পরিচয় আরও বিশদ ভাবে দিতে হবে না।
=≠==============================×