Tuesday, November 29, 2016

6>|| ঈশ্বর আছেন কি নেই -????-( সংগ্রহ )


6>|| ঈশ্বর আছেন কি নেই -( সংগ্রহ )

Copy from fb
---------------------
 (swami Vivekanand=  )


"বাজার থেকে হাফ ডজন ডিম কিনে নিয়ে আসলাম। ভাবছিলাম আমি যদি লন্ডনের কোন এক মুদির দোকানে গিয়ে বলতাম 'ডু ইউ কিপ ডিম? গিভ মে হাফ ডজেন ডিম প্লিজ!' দোকানদার নিশ্চয় ভুরু কুঁচকে বলত 'সরি!' অথবা 'পারডন মি!' সে তো জানেনা এগ মানে ডিম। ডিম মানে এগ!
এগ বলি বা ডিম- বস্তু কিন্তু এক। নামরকরণ আমরা যেভাবেই করিনা কেন তাতে পদার্থের অবস্থার কোন পরিবর্তন হয়না। পদার্থের বৈশিষ্টে এটা যোগ করা যেতে পারে। তবে এসব পদার্থবিজ্ঞানের আলোকে কথা নয়। মনোবিজ্ঞানের ভাবনা। স্পষ্ট করে ফিলোসফি বলি।
একটা ভাষা বোধহীন শিশু হয়ত জানেনা ডিমকে ডিম বলা হয়। কিন্তু তাই বলে ঐ সফেদ ডিম্বাকৃতির পদার্থটার বিলোপ হয়না। সে ডিম সম্পর্কে কিছু জানুক বা নাই জানুক এতে ডিমের কিছু যায় আসেনা। কোন একটা বস্তু বা বিষয় সম্পর্কে আমাদের অজ্ঞতা প্রমাণ করেনা যে ঐ বস্তু বা বিষয়ের অস্তিত্ব নেই। 

এভাবেই আমরা বলি ঈশ্বর আছেন! এভাবেই আমরা ভাবি- ডিম অথবা এগ যাই বলিনা কেন জিনিস এক! আল্লাহ বা ভগবান যাই বলিনা কেন বস্তু এক! আমরা দেখতে পাচ্ছিনা, বুঝতে পারছিনা বা আমরা জানিনা বলেই ঈশ্বর নেই তেমন তো নয়!

ডিমের তুলনায় ঈশ্বর অনেক বৃহৎ! এতটা বৃহৎ যে ঈশ্বর হাঁস মুরগীর কল্পনার বাইরে! তাই সমাধানে আসা সহজ হবেনা। 

ডিম পদার্থ আর ঈশ্বর অপদার্থ! 
বস্তুবাদী আলোচনার বিষয় নয় ঈশ্বর; 
ভাববাদের কেন্দ্র বলা যায়! তাই ঘটনাকে আরেকটু ঘোলা করা দরকার! 
ডিম কেনার সময় একটা বিষয় ভাবছিলাম। এই ডিমটা আছে বলেই কি আমি সত্য না কি আমি আছি বলেই ডিমটা সত্য? 
পরিষ্কার করে বললে, জগতের প্রেক্ষিতে আমি না কি আমার প্রেক্ষিতে জগত? 
জগতটা আছে বলেই কি আমি আমাকে তার চেয়ে স্বতন্ত্র বলে চিহ্নিত করি, 
না কি আমি আছি বলেই জগতটাকে আমি আমার চেয়ে আলাদা করে দেখতে পাই? 
আমি আর জগতকি একে অপরের নির্দেশক? 
জগতও সত্য, আমিও সত্য। 
কিন্তু এই সত্যটাকে উপলব্ধি করি আমি। 
জগত তো জড় মাত্র! 
আমাদের উপলব্ধির তারতম্যের অপর মোটামুটি সবকিছুই নির্ভর করে। 
সভ্যতার বিকাশ ও বিনাশ- সবকিছু! 
ডিমকে খাদ্য হিসেবে উপলব্ধি করেছি আমি। 
আমার কৃষ্ণভক্ত বন্ধুর কাছে এটা বিষভক্ষণ ও নরকের রাস্তা। 
উপলব্ধি দুরকম হল- তাই ডিমের প্রয়োগও দুরকম হল। 
সে বাঙালির ছেলে। 
ছেলেবেলা থেকে মাছ ডিম না খেয়ে প্রোটিনের ঘাটিতে ভুগছে! 
আর আমি বেশি খেয়ে কোলেস্টেরলের ঠেলায় আছি!

কথা হল উপলব্ধির তারতম্য ঈশ্বরের অস্তিত্ব অনস্তিত্বেও ঘটছে আমাদের। কারো কাছে ঈশ্বরের হাত পা নাক কান সব আছে। কারো কাছে আবার ঈশ্বর আছেন। খোদার আরস আছে। তিনি সেখানে বসবেন হাসরের দিনে। অথচ তার নাকি কোন অবয়ব নেই! একই সত্ত্বা নিয়ে নিয়ে যখন এত রকমের উপলব্ধি তখন ভাবতে হয়- সত্যি টা কি? অথবা আদোও এমন কিছু আছে কিনা? ডিমের আলোচনায় বলেছিলাম ডিমের মতন ঈশ্বরও সত্য এমন দাবী করা যায়। তবে ডিমের গঠন সবার কাছে এক হলেও ঈশ্বরের গঠন অভিন্ন নয়! এটার জন্যই চিন্তা হচ্ছে!
তারপরের কথা হচ্ছে সেই অস্তিত্ববাদের। ঈশ্বরের প্রেক্ষিতে আমি না কি আমার প্রেক্ষিতে আমি? জগত ও আমার প্রেক্ষিতে বলেছিলাম আমরা একে অপরের নির্দেশক। বিষয়টা জটিল বটে। জগত জড় বলে একে আপেক্ষিক বা আমার স্বাপেক্ষিক বলা যায়। জগত বা আমি কোনটাই ভাববাদের বিষয় নই। আমাদের ওজন আছে, ভর আছে, স্পষ্ট গতি প্রকৃতি আছে। আমরা একে অপরের কাছে নির্দেশ্য! তাই বুঝি- জগত আছে বলে আমি টের পাই আমি আছি। আর আমি (সাবজেক্ট) না থাকলে এই প্রশ্ন কে ওঠাত 'জগত আছে কি নেই?' কিন্তু ঈশ্বরের ক্ষেত্রে এই তত্ত্ব খাটেনা। কারণ ঈশ্বর অনির্দেশ্য। ঈশ্বর ও আমি একে অপরের পরিণাম নই, নির্দেশক নই। আমি ভাবছি বলেই ঈশ্বর অস্তিত্বময় হচ্ছে! আপাতত বিষয়টা এরকম!

কিন্তু এই 'আমি' শব্দটা আমাদের সামনে একটা বিরাট প্রশ্ন নিয়ে আসে সেটা হল- 'কে আমি?' এর উত্তর পেতে গিয়ে আমাদের অনেক হিমশিম খেতে হয়। দেহ আমাদের আমিত্বের ধ্রুবক নয়, মন নয়, ইন্টেলিজেন্স নয়। কারণ এগুলো প্রতিনিয়ত বিবর্তনের আবহে আছে। আমাদের ব্রেইন আমাদের নিয়ন্ত্রণ করে এটা বিজ্ঞানের দাবী। কিন্তু ব্রেইনে ত্রুটি হলে ওষুধ পত্রের বন্দোবস্ত করতে হচ্ছে। Absolute reality বলতে যা বোঝানো হয় ব্রেইন ঠিক সেটা নয়। শুদ্ধতম গাঁজায় জোরে দুটান দিলে ব্রেইনের (নিউরনের) অবস্থা টলমাটাল হয়। সবচেয়ে বড় প্রশ্নটা আসে মৃত্যুকে নিয়ে? মরার পরেও ব্রেইন তাজা থাকে। তাহলে মরে কে? হিন্দু দর্শন বলছে দেহ মরে আত্মা থাকে! আমি হিন্দু দর্শনকে এজন্য প্রাইওরিটি দিচ্ছি কারণ আর কোন ধর্মদর্শন এই বিষয় নিয়ে এত গভীর আলোচনা করেনা! বৌদ্ধদর্শন এই আত্মাকে অস্বীকার করে গেছে, কিন্তু মানসিক সংস্কারের প্রবাহকে (জন্মান্তরীন কর্মফলপ্রসূত) পূণর্জন্মের নিয়ামক হিসেবে দাবী করছে যা প্রশ্নবিদ্ধ! এখন আত্মা আছে কি নেই তা বলতে পারছিনা, তবে মৃত্যুর সময় এমন একটা কিছু ঘটে, বা আমরা এমন একটা কিছু হারিয়ে ফেলি যাতে আমাদের আর আমি বোধ থাকেনা। অর্থাৎ আমিও বেঁচে নেই। বলতে পারেন- গভীর ঘুম অথবা অজ্ঞান হলেও এরকম হয়। কিন্তু মৃত্যুর অভিজ্ঞতা নেই বলে এদুটোর সাথে আমি কোন তুলনায় যেতে পারছিনা এই মূহুর্তে। ঘুম ভাঙে, মৃত্যুর ঘুম আর ভাঙেনা। আমার আরো একটা সংশয় আছে ঘুমানোর সময় স্বপ্ন দেখে কে?
যাই হোক আমি এটাই বোঝাচ্ছিলাম প্রকৃত 'আমি' কি বস্তু সেটা সেটা আমাদের কাছেই এখনো অধরা। তাই আমিত্বের বিচার দিয়ে যখনই আমরা কোনকিছুর মূল্যায়ণ করি তখন আমার কাছে দুটো ধারণা প্রথমেই মাথায় আসে-
১। অভিজ্ঞতাবাদ। আমরা যা কিছু ভাবি সব আমাদের অভিজ্ঞতার প্রেক্ষিতেই ভাবি। এটা দর্শনের ভাবনা।
২। আমাদের মস্তিষ্কের স্বতন্ত্র কার্যপ্রণালী ও আমাদের ডিএনএ- এর স্বতন্ত্র গঠন। আমরা একে অপরের থেকে ভিন্ন আদলে তৈরি। তাই আমাদের ভাবনাগুলো কখনো কখনো অপরের সাথে সাদৃশ্যতা পেয়ে গেলেও আমরা সম্পূর্ণ রূপে এক নই।
আমাদের ঈশ্বর ভাবনার সাথেও ওপরের দুটো ধারণাকে প্রাসঙ্গিক ফ্যাক্টর বলে রাখতেই হবে। আমরা যেখানে নিজেদের অস্তিত্ব নিয়েই এখনো দ্বিধান্বিত সেখানে ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিয়ে নিঃসন্দিহান হওয়া আমার কাছে অযৌক্তিক লাগে। আমরা অস্তিত্ব নিয়ে দ্বিধান্বিত মানে কি আমরা কোনকিছু নিয়ে ভাবতে পারব না? তা কেন হবে? তবে perfect আর absolute এর মধ্যে ব্যাবধানটা কি সেটা জানা দরকার! (ক্রমশ......)"
 

 
--------
"তোমরা তিনটি জিনিস নিয়ে ভারতে এসেছিলে। বাইবেল ব্রান্ডি আর বেয়নেট।" আমেরিকা বা ব্রিটিশ মাটির উপর দাড়িয়ে এ কথা বলার মত সাহস বিবেকানন্দেরই ছিল। তার তেজের এক ফোঁটাও যদি আমাদের থাকত তবে তবে এমন দশা হত না। 

----------
 যে জাতি নিজের সংস্কৃতির ওপর শ্রদ্ধাহীন সে বেশীদিন বাঁচে না! অবশ্য সংস্কৃতির ওপর শ্রদ্ধা বজায় রাখতে গেলেও কিছু যুক্তিযুক্ত কারণ লাগে। পৃথিবী যেদিন জেনেছে তাদের একজন আলেক্সান্ডারের চাইতে একজন বুদ্ধের প্রয়োজন বেশী, পৃথিবী যেদিন আবিষ্কার করেছে গ্রীক পুরাণের চাইতে মহাভারতের বিদূর নীতি কিংবা গীতা কিম্বা উপনিষদের বাণী আজও প্রাসঙ্গিক! তারা যেদিন বুঝেছে একজন প্লেটোর কথার চাইতে একজন চাণক্য অনেক বেশী প্রয়োজনীয় সেদিনই তারা বুঝেছে এই ভারতবর্ষ অমর! আর এখান থেকেই বৃটিশের স্বাভিমানে আঘাত লেগেছিল যার প্রতিশোধও তারা চরমভাবে নিয়েছিল! ভারতবর্ষে তাদের অগণিত পুত্রকন্যাও তারা জন্ম দিয়ে গেছে তাদের অসমাপ্ত উদ্দেশ্য পূরণের জন্য! তাদের কর্মকাণ্ড আমরা আজও দেখি!

ভারতবর্ষের প্রাণ পরাণুকরণে পরিপুষ্ট হবে না। ভারতবর্ষের প্রাণে যে শক্তি তার জন্ম থেকেই বিদ্যমান সে তার পোষন করুক। সবার কাছে যাক, সবার মধ্যে যা ভাল তা গ্রহণ করুক, কিন্তু নিজেরটা যেন বাঁচাতে জানে। নইলে একদিন তারাও রোমান, গ্রীক, পারসিক, ফারাও, মায়ান, ইনকাদের মত হারিয়ে যাবে!
 -----------------------------------------
ধর্ম দিয়ে মানুষ কাটার ভব্যতা আমি পাইনি শৈশবে। ধর্মীয় বিভাজন বোঝার সময় আমি এটুকু বুঝেছিলাম আমি হিন্দু, ওরা মুসলিম, ওরা বৌদ্ধ। সব একই গোয়ালের গরু। প্রথম প্রথম বৌদ্ধদের আমি খুবই কমনীয় স্বভাবের মনে করতাম। এই ধারণাটা আমার ভাঙে খুব বিশ্রী ভাবেই। প্রতিটি ধর্মেই যাজকশ্রেণী ধর্মের সকল আদর্শ ডুবিয়ে ছাড়ে। বৌদ্ধ ধর্মেরও এই দুর্গতি। সেখানে আলাদা কোন যাজকশ্রেণী নেই। ভিক্ষুরাই সমাজের পুরোহিত। অনেক ভান্তের সাথে আলাপ করে দেখলাম কি রকম বুজরুকি আর প্রচ্ছন্ন হিংসার চর্চা করে তাদের দিন কাটে। এরাই অনেক অনুগামী সৃষ্টি করেন। এই অনুগামীরা আবার নিজেদের ভেতরেই বিবাদে ব্যস্ত। ভারতবর্ষে বৌদ্ধ ধর্মের একটা সুবর্ণময় ইতিহাস আছে। এই ইতিহাসটাকেও ধীরেধীরে অনেকে কতগুলো গালগল্পে নিয়ে গেছে। বৌদ্ধদের ইতিহাসকে ক্রমে একটা অ্যান্টি-হিন্দু থিওরিতে দাঁড় করানো হয়েছে ইচ্ছাকৃত ভাবে যাতে সত্য-মিথ্যার কথা আপাতত বাদ দিই, এতে লাভেরও কিছু হয় না। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে তারা এই বিষাক্ততার চর্চা করে যাচ্ছে। এবং অনেক ভিক্ষুই এসবের হোতা। ফেসবুকের কল্যাণে কিছু ভিক্ষুর সাথে এই টপিক নিয়ে আলাপ করার দুর্ভাগ্য হয়েছে আমার। তাদের জ্ঞানের বহর আর আচরণের ধারা আমার সম্পূর্ণ শ্রদ্ধানাশ করেছে। কোন কনফ্রেটারনিটি তে থাকলে মানুষের বুদ্ধি যে নিজস্ব গতি হারিয়ে ফেলে তার নিদর্শন সর্বত্র। মানুষ যে ধর্মেই চলুক না কেন শেষপর্যন্ত অন্ধত্বই তাকে গ্রাস করে। কেউ বাদ যায় না। ভগবান বুদ্ধের উপাসকেরাও নন। উপনিষদ এর বাণীধারীরাও নন। ধার্মিক মানে কোন না কোন ভাবেই সে সাম্প্রদায়িক। প্রচ্ছন্ন সাম্প্রদায়িকতা উগ্র মৌলবাদের চেয়ে ক্ষতিকারক কিন্তু সে সময়ে জানান দেয় সেটা।
 ---------------------------------------------
এখানে আমি তুমি আমরা তোমরা
আরও একজন আছে- আমাদের ভেতর থেকে প্রক্ষিপ্ত বাইরে
তরঙ্গায়িত অচ্ছেদ্য অন্ধকার, দেখতে কি পাও?

কোনদিন আমরা দেখতে পাব আমাদের।
কোনদিন আমরা জানতে পারব আমাদের সীমান্ত, সমুদ্রের ধার,
দিগন্তের হিল্লোল নিঃশ্বাস, নিস্তব্ধ, জনাকীর্ণ একক জীবন,
বহুবিধ বহুত্বের আবরণে আমাদের মিথ্যে সংসার
আমাদের সামনে এসে দাঁড়াবে নির্বাণের হাসি নিয়ে।

একি মৃত্যু? একি মুক্তি? একি সান্ত্বনার সাজানো সম্ভার
আমরা সকল যুক্তিতত্ত্ব অথবা যুক্তিহীনতার পরতে পরতে রাখি?

একি শেষের প্রশ্ন? একি সূচনার সূতিকাগার?

অথবা এসব কি নিছকই কল্পনা? অথবা বল সবই কি কল্পনার

যোগ্য করে আমরা বাস্তবে বানিয়ে নিই? আমাদের ইচ্ছে মত আঁকি

অদৃশ্যকে আমাদের রঙ রূপে? প্রশ্ন আমার।


যেখানে চোখ খুললেই অন্ধকার

সেখানে চোখ বুজে রাখলেই ভাল! একদিন সুর্য্য উঠবেই জানি।
--------------------------------------------

 
জীবনজিজ্ঞাসা থেকেই আধ্যাত্মিকতার শুরু। মন্দিরে মসজিদে কপাল ঠেকিয়ে বেড়ানোটা আধ্যাত্মিকতা নয়। ধর্ম-প্রথা-সংস্কারের দাসত্ব করাটা আধ্যাত্মিকতা নয়। অনিশ্চিত ক্ষণস্থায়ী জীবনে্র প্রকৃত অর্থ খোঁজাটাই আধ্যাত্মিকতা। মানুষকে আধ্যাত্মিক হতে গেলে প্রথাবদ্ধ হতে হয় না। প্রথা মানুষকে আধ্যাত্মিক করে না। ধর্মও মানুষকে আধ্যাত্মিক করতে পারে না। আধ্যাত্মিকতা মানুষের স্বভাবজ গুণ।

আধ্যাত্মিক বোধ বিবর্জিত ব্যাক্তি যে ধর্মের অনুসারীই হোক না কেন সে ধার্মিক কিঞ্চিৎ হলেও আধ্যাত্মিক মানব হয় না। যেখানে আধ্যাত্মিকতা নেই সেখানে ধর্ম থাকা না থাকায় কোন ফারাক পড়ে না। মানুষের কাছে ধর্ম একটা পুরাতন সংস্কার। যেখানে উপাস্য আছে আর জিজ্ঞাস্য কিছু নেই! যেখানে অনুকরণ অনুসরণের প্রয়োজন আছে অথচ কার্য-কারণ সম্পর্কের ব্যবচ্ছেদ নেই! সব ধর্ম ও তাদের ভগবান-ঈশ্বর-আল্লা যেখানে সমস্ত যুক্তি ও প্রশ্নের উর্দ্ধে, যেখানে মানুষের চেতনা বাধাগ্রস্ত, দ্বিধাগ্রস্ত, যেখানে সংশয় করাকেও পাপ ভাবা হয় সেখানে আধ্যাত্মিকতা কোথায়? যে মানুষ নিজেকে চেনে না সে ঈশ্বরকে চিনতে চায় কি? সে কতগুলো আচারের অনুগমন করে শুধু! সে ধার্মিক হয়। সে কোনদিনও আধ্যাত্মিক হয় না! যে ব্যাক্তি আধ্যাত্মিক সে সমগ্র মানবজাতির কল্যাণকামী। যে ধার্মিক সে নিজের বৃত্তের মঙ্গল চায়!


অমুক ব্যাক্তি মহাপুরুষ ছিলেন- তাঁর পূজা করলেই আমরা আধ্যাত্মিক হব না! তাঁর মত হবার চেষ্টা করলেই হব! তা না হলে সারাবছর অমুক ব্যাক্তির গুণগান করার ভেতর কোন সার নেই! শাস্ত্র-পুঁথি বিশ্বাস করাতে কোন ধর্ম নেই! ধর্ম আচরণে নিহিত। বাগাড়ম্বরে নয়। আচরণহীন বাগাড়ম্বর নিছক ভণ্ডামি এবং আমরা কমবেশী সবাই ভন্ড! আমরা যা বিশ্বাস করি তা কখনোই কাজে করে দেখাই না! অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমাদের বিশ্বাসগুলোই বিপথগামী, বিপদগামী এবং অর্থহীন ও অবান্তর! কিন্তু আমরা শিক্ষা পেয়েছি- 'বিশ্বাসে মিলায় বস্তু'...... ইত্যাদি ইত্যাদি! আমাদের বিশ্বাস করতে শেখানো হয়েছে! আমাদের পালন করতে শিক্ষা দেয়নি কেউ! আমাদের চিন্তাশক্তিকে প্রশস্ত করতে পারিনি আমরা কোনদিন! আমরা আমাদের চৌদ্দপুরুষের সঙ্কীর্ণ চৌহদ্দির ভেতরে নির্বিচারে বসবাস করাকেই শ্রেয় ভাবি! তা না হলে পাপ হবে! তা না হলে ধর্মবিরুদ্ধতা হবে! মশাই গো, আমার অমন ধর্মে রুচি নেই! আমি আধ্যাত্মিক হওয়াকে সাষ্ঠাঙ্গ জানাই! ধর্মের কূয়োতে পড়ে থাকাকে নয়! অধর্মের কূয়োতে ডুবে যাও্য়াকেও নয়।


"I must not die for my beliefs because I might be wrong." - Bertrand Russel


আমি এই পথের পথিক! আমি কোন বিশ্বাসের আজ্ঞাকারী নই! কোন ধর্মের স্বীকৃত দাস নই! আমার জীবনে অজস্র জিজ্ঞাসা আছে। হয়ত একদিন আমার মত করেই আমি উত্তর পাব। হয়ত পাব না। আমার হিন্দুত্ব আর্য্য ঋষিদের পরম্পরাগত সম্পদ! এইসব শাক্ত-বোষ্টমের বাতলে দেয়া আচারবিচার নয়! আমার হিন্দুত্ব উপনিষদের বাণী! মনুসংহিতা-টনুসংহিতা নয়! আমার হিন্দুত্ব রামায়ণ-মহাভারতের সংস্কৃতিতে! হাজার হাজার অমুকব্রত-তমুকব্রততে নয়! আমার হিন্দুত্ব অন্ধের মত সবকিছু মেনে নেয়াতে নয়! আমার হিন্দুত্ব হিন্দুদের বিধান-ফিধানের ওপর ভর করে থাকে না! এতে কোন হিন্দুর কি বলার থাকে বলুক না!


স্পষ্ট করে বললে- ধর্মবিশ্বাসই কাউকে যথার্থ ধার্মিক করে তোলে না, আধ্যাত্মিক তো নয়ই! 'আমি হিন্দু' 'আমি মুসলমান' 'আমি বৌদ্ধ' বললেই কেউ ধার্মিক হয় না! আর আধ্যাত্মিকতা এইসব স্বাতন্ত্র্যকরণের অনেক আগে চলে! আমি হিন্দুর হয়ে লড়ি, আমি সংখ্যালঘুর জন্য লড়ি, আমি বিজ্ঞান ও দর্শনের জন্য্ও লড়ি! আমার এই লড়ালড়িতে ধর্মীয় উগ্রতার গন্ধ নেই! আমি সবচেয়ে বেশী আঘাতটা হিন্দুদেরই করি। তাদের অধঃপতনটা বেশী করে দেখাই! তাদের মজ্জায় মজ্জায় কুসংস্কার আর অন্ধবিশ্বাস ভরে গেছে। তাদের ধর্ম থেকে সমস্ত দর্শন বিলুপ্ত হয়েছে। তারা তাদের ধর্মের ভিত্তিটাই চেনে না! তাদের বৈদিক ধর্মকে তারা টুকরো টুকরো গল্পের আস্তরণে সাজিয়েছে। সেখানে কতশত মহানায়ক, কত ভগবান, কত দেবী দেবতা আর এই নিয়ে তাদের ভেতর কত হিংসাহিংসী! জাতপাতের বালাই! বিষ্ণু-শিবের মারামারি! একে অপরকে গালাগাল। উদ্ভ্রান্ত কতশত হেনতেন প্রথা! কতশত মানুষের লেখা কেচ্ছাকাহিনী আর ব্রাহ্মণ্যবাদী বিধান! এইসব হিন্দুদের গিলে খাচ্ছে। স্পেশালি বাংলাদেশের মত বিজ্ঞানচর্চায় পিছিয়ে থাকা দেশে! আমি এসব বলি! এইসব অর্বাচীনতাকে আমি ধর্ম বলে মানি না! আমি এসব ধর্মের অন্তর্ভূক্ত কেউ নই!


মশাই গো, গরীব-গুরবো, চাষাভূষোরা শিক্ষার আলো পায় না! সে আঁধা হোক, কানা হোক, আমি তার সাথে আছি! কিন্তু আপনাদের মত শিক্ষিত (কেবল ডিগ্রীধারী) ধার্মিকেরা যারা ধর্মের নামে অন্ধকারের উপাসনা করেন আমি তাদের সাথে চলাকে অগৌরবের মনে করি। আমি দেখেছি চাষীর বৌ মোমবাতি কিনে আনে, সে মোমবাতি অর্ধেক করে কাটে, সেই আধাকাটা মোমবাতি লক্ষ্মীর ঘটের সামনে জ্বালায়, উলু দিয়ে কাঁসা বাজায়, গড় হয়ে প্রণাম করে, শাঁখাজোড়া হাত কপালে ঠেকায়! হ্যাঁ- এও প্রথা! কিন্তু এর মধ্যে মাটির সংস্কৃতি মিশে আছে! এর মধ্যে কোন রঙঢঙের ফ্যাশন নেই! আমি সেই সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল! আপনাদের নানা পুঁথি উদ্ধার করা হিজিবিজি গপ্পোবাজির প্রতি আমার বিন্দুমাত্র ভরসা নেই! আমার তেমন কোন হিন্দুত্ব নেই!
-----------------------------------------

আমার কৈশোর থেকেই আমি প্রচণ্ড ভাবে তথাগত বুদ্ধ প্রভাবিত। জগতে মানুষের যত উচ্চতম বিকাশ দেখা গেছে তার কোনটাই তথাগত বুদ্ধকে ছাড়িয়ে যায়নি। স্বামী বিবেকানন্দ বলতেন জগত আর কখনো এতবড় হৃদয় দেখেনি। বুদ্ধের শিক্ষা আর অদ্বৈত বেদান্তের শিক্ষার মধ্যে একটাই মৌলিক পার্থক্য। বুদ্ধ আত্মা, ব্রহ্ম এসব নিয়ে অস্তি-নাস্তির পারে ছিলেন। তিনি বুঝিয়েছিলেন মানুষ এসবের বিতর্ক নিয়ে নির্বাণলাভ করতে পারে না। মানুষের কায়মনোবাক্যে পবিত্রতা ও সাধুত্ব চাই। সাধনা চাই। মানুষের চাই অর্থহীন আচার-বিচার-সংস্কার থেকে মুক্তি। তথাকথিত প্রমাদযুক্ত বিশ্বাসের নিগড় থেকে স্বাধীনতা। মানুষ নিজের ভেতরেই খুঁজুক আলো। তিনি বললেন 'আত্মদীপো ভব।'


আমি হিন্দু পরিবারে জন্মেছি। হিন্দুর ধর্মীয় সংস্কারে শ্রদ্ধা নিয়েই আমি বর্ধিত হয়েছি। যত আমার আয়ু বেড়েছে ততই আমি হিন্দুর ধর্মাচারের নামে হাজার লোকাচার, পূজার নামে মাতলামি, অবতারবাদের আশ্রয়ে ভন্ডামি, জাতপাতের বেড়াজাল দেখতে দেখতে ততই আমি হিন্দুবিমুখ হয়েছিলাম। আমি বিবেকানন্দের আলো না পেলে জানতামই না এই বৈদিক ধর্ম কি ছিল, কি অদ্ভুত দর্শন ছিল ভারতভূমির, কি বিরাট এক সংস্কৃতি ও সভ্যতা ছিল আমাদের যার সবই আমরা ভুলে গেছি। এখন আমরা কেবলই একটা পৌত্তলিক ধর্মাচারে বদ্ধ হয়ে গেছি! এটা তেতো সত্য। আমি প্রতিদিন হতাশ হয়েছি। কিন্তু এ দায় ধর্মের নয়।


৫০০০ (আধুনিক গবেষণায় আরও বেশী) বছরের অত্যন্ত দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় আর্য্যদের সংস্কৃতি, ধর্ম আজও গোড়ার মত অবিকৃত থাকবে এটা ভাবা যায় না। কোন সভ্যতাই এভাবে বাঁচে না। সভ্যতা নদীর মত। হিন্দুদের এই পথচলাতে তারা নানা পথে যা কিছু পেয়েছে সবই নিজের ভেতর নিয়েছে এবং বর্ধিত হয়েছে। এতে তাদের ধর্মীয় গোঁড়ামির স্থানটা নমনীয় হলেও ভেতরের দার্শনিক ঐক্য একেবারে পঁচে গেছে। তাদের নানা মুনির নানা মতই ধর্ম। তাদের ধর্মের সার্বভৌম ভিত্তি কি সেটা আজ তাদেরই অজানা। আমি এরকম হিন্দুত্বে অনাস্থাশীল এবং আমি বিশ্বাস করি এই অবস্থার উন্নতি আসলেই অসম্ভব। চেষ্টা করাটা হবে ১০০০ ভাঙা কাঁচের টুকরো দিয়ে একটা সুন্দর আয়না গড়ার মত!

======================================


   স্বামীজি বলতেন শংকরের জ্ঞান 

আর বুদ্ধের হ্রদয় জগতে অতুলনীয়।
========================================





 ১ টাকায় ১ মণ চাল! 

বাংলাদেশের ইতিহাস বইতে পড়া 
সবচেয়ে ট্যান্টালাইজিং মিস্ট্রি!

 ইতিহাস বলে ----

ঔরঙ্গজেব নিযুক্ত বাংলার সুবেদার শায়েস্তা খাঁ, 

তাঁর অন্যতম কীর্তি হিসেবে কথিত আছে- 
তাঁর আমলে ১ টাকায় ১ মণ চাল পাওয়া যেত! বাপরে বাপ! খুব ভাল কথা।

সুবেদার শায়েস্তা খাঁর আমলে বাংলার সাধারণ জনগণ 

বাজার-সদাই করত কড়ি দিয়ে। 
এবার কড়ির হিসেবটা কেমন একটু দেখি।

৪ কড়ি = ১ গণ্ডা, 

২০ গণ্ডা = ১ পণ, 
৪ পণ = ১ আনা, 
৪ আনা = ১ কাহন, 
৪ কাহন = ১ টাকা। 
অর্থাৎ 
১ টাকা = ৫১২০ কড়ি।

১ মণ অর্থাৎ ৪০ সের চাল কিনতে কাউকে ৫১২০টি কড়ি দিতে হত! 

এতে কি চালের মূল্য কম বোঝা যাচ্ছে নাকি বাড়তি বোঝা যাচ্ছে।


================================================


এক টাকায় এক মন নয়, আট মনের কথা বলা হয়।

এখানে আপনার পয়েন্ট ঠিক আছে, ওই সময় একটা গরুর দামও ওরকমই ছিল।

আর যারা সস্তা বোঝাতে ওই গল্প উল্লেখ করে, তারা এটা বলেনা যে, সেসময় আট মন চাল বিক্রি করলে মাত্র এক টাকা পাওয়া যেত!

==============================================

No comments:

Post a Comment