Saturday, July 29, 2023

24>|| তিন শাক শরীরকে সুস্থ রোগ মুক্ত, রাখতে

 


24>|| তিন শাক শরীরকে সুস্থ রোগ মুক্ত, রাখতে



শরীরকে রাখতে সুস্থ রোগ মুক্ত,

খাবারে তিন শাক করতে হবে যুক্ত।

পালংশাক,পুঁইশাক,লাউ শাক,

এইতিন শাকেই বাজী মাত।

রোগ বালাই সব যাবে দূর,

শরীর হবে সুন্দর রোগ যাবে দূর।


একটু মনযোগ দিলেই বুঝবেন

তিন শাকের গুনগান সত্য কেমন।


পালং শাক::-(Spinacia oleracea)

পালং শাকে আছে উচ্চ মাত্রার ম্যাগনেসিয়াম, যা রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।

আছে বেশি মাত্রার ভিটামিন এ, লিম্ফোসাইট বা রক্তের শ্বেত কণিকা দেহকে বিভিন্ন সংক্রমণ ও রোগ থেকে রক্ষা করে।

এতে থাকা ১০টিরও বেশি ভিন্ন ধরনের ফ্ল্যাভোনয়েড ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জটিল রোগের বিরুদ্ধে কাজ করে।

এর উচ্চ মাত্রার বিটা ক্যারোটিন চোখের ছানি পড়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

এর ভিটামিন 'এ' ত্বকের বাইরের স্তরের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

এতে ফলিক এসিড থাকায় তা হৃদ যন্ত্রের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করতে সক্ষম। 

প্রাপ্ত বয়স্ক ঘন সবুজ পালং পাতায় উচ্চ মাত্রায় ক্লোরোফিল থাকায় এতে ক্যারটিনয়েড বিদ্যমান আর তা আমাদের শরীরে ব্যাথা নাশক ও ক্যানসার প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে।

আরও উপকারিতাঃ পালং শাক অন্ত্রের ভেতরে জমে থাকা মল সহজে বের করে দিতে সহায়তা করে। যার কারণে যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য আছে তাদের জন্য এ শাক খুব উপকারী। 


পালং শাকের বীজ কৃমি ও মূত্রের রোগ সারায় ও এর কচি পাতা ফুসফুস, কণ্ঠনালীর সমস্যা, শরীর জ্বালাপোড়া সমস্যা দূর করতেও সাহায্য করে। জন্ডিসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য এই শাক বিশেষ উপকারী। 


পোড়া ঘায়ে, ক্ষত স্থানে, ব্রণে বা কোথাও ব্যথায় কালচে হয়ে গেলে টাটকা পালং পাতার রসের প্রলেপ লাগালে উপকার পাওয়া যায়। 


পালং শাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, বি, সি, ই এবং আয়রন। এজন্য পালং শাক খেলে রক্তে আয়রনের মাত্রা বেড়ে যায়।





★★। বয়সের ছাপ লুকানোর জন্য আমরা কতকিছুই না করি। 

কিন্তু শীতের সবজি পালং শাকেই আছে এন্টি-অক্সিডেন্ট। 

আর এন্টি-অক্সিডেন্টের কাজই হলো কোষের ক্ষয়রোধ করে শরীরকে তারুণ্যদীপ্ত এবং সুস্থ-সবল রাখা। অর্থাৎ বার্ধক্যকে জয় করতে পালং শাকের রয়েছে অনন্য ভূমিকা।


★।পালং শাকের এন্টি-অক্সিডেন্ট মস্তিষ্কেও কোষগুলোকেও সতেজ এবং কর্মক্ষম রাখে। তাই মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়াতেও এর জুড়ি নেই। 


★। সহজলভ্য এই পালং শাকে রয়েছে অনেক খাদ্যগুণ। 

ভিটামিন 'ডি' ছাড়া বাকি সব ভিটামিনই এতে রয়েছে। বিশেষ করে বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন 'ই' এবং ভিটামিন 'সি'র উৎস পালং শাক। প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, আয়রনসহ বেশকিছু প্রয়োজনীয় মিনারেল রয়েছে এতে।


★সবশেষে বলা যায় যে পালং শাকে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা। সব মিলিয়ে পালং শাক শীতের এক অসাধারণ সবজি!

=========================


 পুঁইশাক::-- 

পুঁই শাকের বেশি কিছু না বলে এর

 ১৫টি উপকারিতার কথা উল্লেখ করাই যথেষ্ঠ হবে।


 কথায় আছে শাকের মধ্যে পুঁই, মাছের মধ্যে রুই। 

স্বাস্থ্য ভালো রাখতে অতি জরুরি দুই।


পুঁইশাকে রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ।

যেমন::-- প্রচুর ভিটামিন এ, বি, সি, ক্যালসিয়াম, আয়রণ, ফলিক অ্যাসিড, পটাশিয়াম, জিঙ্ক ।  

ভীষণ উপকারী শাক পুঁইশাক::--


১। শিশুদের জন্য::--

শিশুদের নিয়মিত পুঁইশাক খাওয়ালে তাদের বৃদ্ধি ভালো হয়। শিশুদের বেড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ যেমন – ভিটামিন, প্রোটিন, নানান খনিজ  এইপুঁইশাক থেকে পাওয়া যায়।


২। চোখের জন্য –

পুঁইশাক চোখ ভালো রাখতে খুব ভালো। এতে আছে বিটা ক্যারোটিন, লুটেইন। এই উপাদানগুলি চোখের জন্য খুবই ভালো। কারণ রেটিনার একটি অংশ ম্যাকুলা এতে থাকে লুটেইন। এই লুইটেন অতিরিক্ত আলোর কুপ্রভাব থেকে চোখকে রক্ষা করে। ম্যাকুলার ডিজেনারেশনের থেকেও চোখকে রক্ষা করে।


৩। শর্করার জন্য –

পুঁইশাকে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের নাম লিপোইক অ্যাসিড। এইঅ্যান্টি অক্সিডেন্ট রক্তে শর্করার মাত্রা কমায়। পাশাপাশি ইনসুলিনের ভারসাম্যও ধরে রাখে। তা ছাড়া এটি ডায়াবেটিস রোগিদের পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি এবং অটোনমিক নিউরোপ্যাথির সমস্যা কমায়।


৪। এনার্জি বাড়ায় –

পুঁইশাকে থাকে ম্যাগনেসিয়াম। এটি এনার্জি বাড়াতে সাহায্য করে। পুঁইশাকে থাকে ফোলেট। এটি এনার্জির উৎস। এটি খাবারকে এনার্জিতে রূপান্তরিত করে। তাছাড়া পুঁইশাক হল ন্যাচারাল অ্যালকালাইন। এই উপাদান আমাদের তরতাজা, এনার্জেটিক রাখে।


৫। অ্যাজমা আটকায়

পুঁইশাকে আছে বিটা ক্যারোটিন। এই বিটা ক্যারোটিন অ্যাজমা হওয়ার আশঙ্কা কমায়।  


৬। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে –

পুঁইশাক পটাশিয়ামের উৎস। পটাশিয়াম ব্লাড প্রেসার কমায়। পটাশিয়াম শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।


৭। ক্যানসার দূরে রাখতে সক্ষম।::--

সবুজ শাকসবজিতে তাহেক ক্লোরোফিল। এই ক্লোরোফিল  কার্সিনোজেনিক প্রভাব আটকায়। এই কার্সিনোজেনিকের প্রভাবেই ক্যানসার হয়। তাই পুঁইশাক খুবই উপকারী। তাছাড়া এর ফাইবার পাকস্থলী আর কোলন ক্যানসার প্রতিরোধ করে। পুঁইশাক ক্যানসার দূরে রাখতে সক্ষম।




৮।হাড়ের জন্য –উপকারি পুঁইশাক।

আমাদের হাড় শক্ত করতে সাহায্য করে ভিটামিন কে। তাই ভিটামিন কে শরীরে কম প্রবেশ করা মানে হাড়ের মজবুতি কমে যাওয়া। পুঁই শাক ভিটামিন কে’র একটি খুব ভালো উৎস। ভিটামিন কে হাড়ের মেট্রিক্স প্রোটিন উন্নত করে। ক্যালসিয়াম ধারণ ক্ষমতা বাড়ায়। পাশাপাশি, ইউরিনে ক্যালসিয়ামের মাত্রাও কম করে। হাড়ের শক্তি বাড়ানোর জন্য তাই পুঁই শাক খান।


৯। হজমে সহায়তা করে।::---

বদহজম, গ্যাস, অ্যাসিডিটির সমস্যা দূর করে এটি। এটি হজম ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। এর ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য হতে দেয় না। শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ বের করে দেয়।


১০। রোগ প্রতিরোধে –

এর পুষ্টিগুণ প্রচুর। শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বারাতে এটি বেশ উপকারী।


১১। চুল ও ত্বকের জন্য –

ভিটামিন এ, ত্বকের ও স্ক্যাল্পের তেল নিঃসরণকে নিয়ন্ত্রণ করে। এই সব জায়গা আর্দ্রতা বা ময়েশ্চার ধরে রাখে।


১২। ব্রণের জন্য –

অতিরিক্ত তেল বা সিবাম হল ব্রণের কারণ। পুঁইশাক এই সিবাম নিঃসরণ কমায়, তাই ব্রণ হয় না। ভিটামিন সি ত্বকের কোষ কোলাজিনের জন্য যে ভালো। তাও আছে এই শাকে।


 ১৩। পাইলস –

নিয়মিত পুঁইশাক কোষ্ঠকাঠিন্য যেমন দূর হয় তেমনই পাইলস, ফিসচুলা ও হেমোরয়েড হওয়ার আশঙ্কা কমায়।


১৪। প্রদাহ –

পুঁইশাকের আছে অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি উপাদান। তাই শরীরের কোনো প্রদাহ হলে বা ফুলে গেলে পুঁইশাকের শিকড় বেটে প্রলেপ লাগালে তড়াতাড়ি কমে যায়। ফলে শরীরে খোসপাঁচড়া, ফোঁড়া ইত্যাদির সংক্রমণ হতে পারে না।


১৫। মাথাব্যথায় –

প্রতিদিন মাথাব্যথার রোগ থাকলে নিয়মিত পুঁইশাক খাওয়া ভালো।

=======================

লাউ শাক::---


বিভিন্ন ধরনের শাকের মধ্যে সহজ লভ্য 

লাউ শাক খেলে স্বাদ তো পাবেনই, এর সঙ্গে পাবেন স্বাস্থ্যের নানা উপকারিতা। 


লাউ শাক ভর্তা, ঝোল, মাছের সঙ্গে খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। এই লাউ শাকে রয়েছে ফলিক এসিড, আয়রন, পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম এবং ভিটামিন-সি। আবার এই শাকে আছে প্রচুর পরিমাণে আঁশ। যা শরীরস্বাস্থ্য সুস্থ ও সবল রাখতে দারুনভাবে কার্যকর। এবার লাউ শাকের উপকারিতা এবং পুষ্টি সম্পর্কে জেনে নিন...



★আয়রন থাকার কারণে লাউ শাক রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ এবং লোহিত রক্ত কনিকার সংখ্যা বাড়িয়ে রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে।


★ লাউ শাকে রয়েছে উচ্চ মাত্রার ভিটামিন-সি। যা  বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ ও ঠাণ্ডা প্রতিরোধে সাহায্য করে।


★ প্রচুর আঁশ থাকার কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে লাউ শাক। এছাড়া পাইলস প্রতিরোধেও সহায়ক।


★  বিটা-ক্যারোটিন, লুটেইন এবং জিয়েজ্যান্থিনে পরিপূর্ণ হলো লাউ শাক। বিটা-ক্যারোটিন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং লুটেইন ও জিয়েজ্যান্থিন চোখের নানাবিধ রোগ প্রতিরোধ করে থাকে।


★ লাউ শাক দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। তাই লাউ শাক খেলে মস্তিষ্ক থাকবে ঠাণ্ডা এবং ঘুমও হবে গভীর।


★ লাউ শাকে থাকা ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেশিয়াম হাড় শক্ত ও মজবুত করে। অস্টিওপোরেসিস এবং অন্যান্য ক্যালসিয়ামের অভাবজনিত রোগের ঝুঁকি কমায় লাউ শাক।


★ লাউ শাক কোলেস্টেরল ও ফ্যাট মুক্ত। আবার ক্যালরি কম থাকায় ওজন কমানোর জন্য লাউ শাক হলো একটি আদর্শ খাবার। এই শাকে থাকা পটাশিয়াম হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখে।

==========================





No comments:

Post a Comment